প্রবৃদ্ধি কমলেও স্থিতিশীল মার্কিন অর্থনীতি

উড়োজাহাজ নির্মাতা কোম্পানি বোয়িংয়ে ধর্মঘটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ সংকুচিত হয়েছে।

উড়োজাহাজ নির্মাতা কোম্পানি বোয়িংয়ে ধর্মঘটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ সংকুচিত হয়েছে। এর প্রভাবে গত বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে। তবে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ায় গত দুই বছরে ভোক্তা ব্যয় বেড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করায় চলতি বছর মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) ধীরে ধীরে সুদহার কমানোর পথে হাঁটতে পারে। খবর রয়টার্স।

গত বৃহস্পতিবার মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ ব্যুরোর প্রাথমিক জিডিপি হিসাব অনুযায়ী, গত প্রান্তিকে বার্ষিক ২ দশমিক ৩ শতাংশ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে, জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে যা ছিল ৩ দশমিক ১ শতাংশ ।

রয়টার্সের জরিপে অর্থনীতিবিদরা জিডিপি ২ দশমিক ৬ শতাংশ গতিতে বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০২৩ সালে অর্থনীতির আকার ২ দশমিক ৯ শতাংশ হারে বেড়েছিল। ওই বছরের চতুর্থ প্রান্তিক থেকে ২০২৪ সালের শেষ তিন মাস পর্যন্ত এটি ২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে বেড়েছে।

ফেডের নীতিনির্ধারকরা ১ দশমিক ৮ শতাংশ হারকে এমন প্রবৃদ্ধির হার বিবেচনা করেন, যা মুদ্রানীতি বাড়ায় না। বর্তমান প্রবৃদ্ধির হার এর তুলনায় অনেক বেশি হারে বাড়ছে।

বাণিজ্য বিভাগের প্রতিবেদনে দেখা যায়, আকস্মিকভাবে ভোক্তা চাহিদা বাড়ায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না। এটি গত প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির শ্লথগতির অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমদানির ওপর শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা কার্যকর করতে যাচ্ছেন। একে সামনে রেখে মার্কিন কোম্পানিগুলোর পণ্য ক্রয়ের প্রবণতাও প্রবৃদ্ধি কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মজুদও প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। আমদানি বাড়ায় ডিসেম্বরে বাণিজ্য ঘাটতি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। কিন্তু পরে অপ্রত্যাশিতভাবে আমদানি কমে যায়। ফলে অর্থনীতিবিদরা চতুর্থ প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২২ ও ২০২৩ সালে সুদহার ৫ দশমিক ২৫ শতাংশে উন্নীত করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছিল। গত বছর অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা করা হলেও বাস্তবে তা ঘটেনি। তবে অর্থনীতির নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল। এ পরিস্থিতিতে অর্থনীতি জোরদারের প্রচারণা চালিয়ে মার্কিন সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন প্রশাসনের প্রস্তাবিত আর্থিক, বাণিজ্য ও অভিবাসন নীতিগুলো অর্থনীতির ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করে দিয়েছে।

এফএইচএন ফাইন্যান্সিয়ালের ম্যাক্রো স্ট্র্যাটেজিস্ট উইল কমপারনোল বলেন, ‘‌এ প্রতিবেদন নিশ্চিত করছে গত প্রান্তিকে ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি ততটা কঠোর ছিল না। মৌলিক অর্থনৈতিক নীতিগুলো যা-ই হোক না কেন, নতুন ফেডারেল নীতি শিগগিরই অর্থনীতিকে একটি নতুন পথে পরিচালিত করতে পারে।’

আরও